আলুর রসের উপকারিতা

আলুর রসের উপকারিতা

লাইফস্টাইল ডেস্ক : এক গ্লাস কাঁচা আলুর রস নানানভাবে স্বাস্থ্যের জন্য উপকার বয়ে আনতে পারে। যে কোনোভাবেই আলু খাওয়া যায়। কার্বোহাইড্রেইট সমৃদ্ধ হওয়ায় অতিরিক্ত আলু খাওয়া ওজন বাড়ায়। তবে সঠিক পরিমাণ ও উপায়ে আলু খাওয়া স্বাস্থ্যকর। স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভারতীয় পুষ্টিবিদ লুক কুটিনোহ বলেন, ‘আলু নিজে খারাপ নয়। নিজেদের স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য প্রাকৃতিক উপাদানকে দোষ দেওয়ার কোনো কারণ নেই। বরং জীবনযাত্রা উন্নত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিলে স্বাস্থ্যগত সমস্যা দূর হয়।’
আলুর রসের স্বাস্থ্যোপকারিতা : আলু ভিটামিন, ফাইটোকেমিক্যাল ও পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ। কাঁচা আলুর রস রান্না করার চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। এটা খেতে খুব বেশি মজাদার না হলেও অন্যান্য যে কোনো পানীয়র চেয়ে বেশি পুষ্টিকর।
পাকস্থলীর সুস্থতা: আলুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যালকালাইন থাকায় তা অম্লতা ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছে এমন রোগীদের জন্য এটা উপকারী। কুটিনহো’র মতে, ‘এক গ্লাস আলুর রস পাকস্থলি থেকে অতিরিক্ত অ্যাসিড দূর করতে সহায়তা করে। অনেক গবেষোণায় দেখা গেছে আলুর রস আলসার ও মলাশয়ের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।’
ডার্ক সার্কেল : চোখের নিচের কালো দাগ হওয়ার অন্যতম কারণ হল কিডনি ও যকৃতের বিষাক্ত পদার্থ। গবেষণা থেকে জানা যায়, কিডনি ও যকৃত ঠিক মতো কাজ করলে চোখের নিচের কালো দাগ কমাতেও সহায়ক। আলুর রস কিডনি ও যকৃত পরিষ্কারে খুব ভালো কাজ করে।
ভিটামিন বি সমৃদ্ধ: আলু ভিটামিন বি১, বি২, বি৩ সমৃদ্ধ যা শরীরে কার্বোহাইড্রেইট থেকে গ্লুকোজ ও পরে শক্তিতে পরিণত হয়। ভিটামিন বি আমাদের মস্তিষ্ক ও স্নায়ু-ক্রিয়াতেও সহায়তা করে। অবসাদ গ্রস্ত, ক্লান্ত বা মন-সংযোগের সমস্যা দেখা দিলে এক গ্লাস আলুর রস জাদুর মতো কাজ করবে।
ত্বকের ফোলাভাব কমায়: সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর চেহারা ফুলে থাকার সমস্যা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। এর কারণ হল শরীরে পানি ধরে রাখার প্রভাব ও বিভিন্ন ওষুধ খাওয়ার ফলাফল। সকালে এক গ্লাস আলুর রস পান করলে চেহারার ফোলাভাব কমিয়ে সৌন্দর্য ও উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
একজিমা ও সিরোসিস: ত্বকের নানা রকম সমস্যা যেমন- একজিমা ও সিরোসিস ইত্যাদি দূর করতে আলুর রস উপকারী। ত্বকে আলুর রস ব্যবহার করলে তা ত্বকের জ্বালাপোড়া ও চুলকানি দূর করতে সাহায্য করে। এই রস ত্বক পরিষ্কার করতে ও মাথার ত্বকের খুশকি দূর করতেও সহায়ক।
অন্যান্য পুষ্টি গুণ: পটাশিয়াম, লৌহ, জিংক, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি লৌহ শোষনে সাহায্য করে ও কোষকলা তৈরিতে ভূমিকা রাখে।
আলুর রস বানানোর উপায় : আলুর খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরা করে কেটে নিন। যদি কোনো সবুজ বা অঙ্কুরিত অংশ থাকে তাহলে ফেলে দিন। টুকরা করা আলুতে সামান্য পানি যোগ করে ব্লেন্ড করে নিন। চাইলে এতে বিটরুট, গাজর, পুদিনা বা লেবু যোগ করে স্বাদ বৃদ্ধি করতে পারেন।
ত্বকের যতেœ আলু : শরীরে ও মাথার ত্বকে আলুর রস সরাসরি ব্যবহার করা যায়। আলুর খোসা চোখের চারপাশের কালো দাগ দূর করতে ব্যবহার করা যায়।
আসল কথা : আলুর রস অনেকের শরীরে ভালো কাজ করে; অনেকের ক্ষেত্রে করে না। প্রত্যেকেরই শরীরের ধরন আলদা। তাই এর ফলাফলও ভিন্ন হয়। কোনো কারণে নিয়মিত ওষুধ সেবন করলে সেক্ষেত্রে আলুর রস খাওয়ার ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কিডনি রোগীর এটা না খাওয়াই ভালো। তাছাড়া, আলুর রস ত্বকে ব্যবহারের আগে তা প্যাচ টেস্ট করে নিন।

Please follow and like us: