বৃহঃ. জানু ১৭, ২০১৯

আলিসের হ্যাটট্রিকে রংপুরের জয় হাসি হাসল ঢাকা

আলিসের হ্যাটট্রিকে রংপুরের জয় হাসি হাসল ঢাকা

Last Updated on

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। যেকোনো মুহূর্তে পাল্টে যেতে পারে ম্যাচের রঙ। আজ মিরপুরে ঢাকা ডায়নামাইটস ও রংপুর রাইডার্সের মধ্যকার হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি হয়ে থাকল তার উজ্বল দৃষ্টান্ত। রংপুরের প্রায় জেতা ম্যাচটি নাটকীয়ভাবে ২ রানে জিতে নিল ঢাকা। সাকিব আল হাসানের দলের এই নাটকীয় জয়ের নায়ক আলিস আল ইসলাম। ২২ বছর বয়সী তরূণের এটাই ছিল বিপিএলে অভিষেক ম্যাচ। আর অভিষেকেই তিনি করে ফেললেন হ্যাটট্রিকের বিশ্ব রেকর্ড। টি-টুয়েন্টিতে অভিষেকে এর আগে কেউই হ্যাটট্রিক করতে পারেননি।
তার নাটকীয় হ্যাটট্রিকেই নাটকীয় জয় পেল ঢাকা। ঢাকার ছুড়ে দেওয়া ১৮৩ রানের জবাবে এক র্পায়ে মাত্র ২ উইকেটেই রংপুর করে ফেলে ১৪৬ রান। জয়ের জন্য রংপুরের দরকার তখন মাত্র ৩৮ রান। হাতে ৮ উইকেট। বল বাকি ২৮টি। রংপুরের জয়কেই তখন মনে হচ্ছিল নিয়তি। কিন্তু দক্ষিণ আফিকান ব্যাটসম্যান রাইলি রোসো আউট হতেই ভোজভাজির মতো পাল্টে যায় ম্যাচের চেহারা।
বিপদের সবচেয়ে বড় কাটা হয়ে উঠা রোসোকে আউট করে নাটকীয় পর্বের শুরুটা করেন আলিস ইসলামই। এরপর ১৫ বলের ব্যবধানে আরও ৪ উইকেট হারিয়ে মহা চাপে পড়ে যায় রংপুর। এই ৪ উইকেটের মধ্যে ৩টিই আবার তুলে নেন তরুণ অফস্পিনার আলিস। যে ৩টি উইকেটই টানা ৩ বলে। মানে হ্যাটট্রিক।
১৫ বলে ৪ উইকেট নাটকের প্রথম উইকেটটা নেন সাকিব আল হাসান। তিনি ফিরিয়ে দেন ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারাকে। এরপর একে একে ‘মহাসৌভাগ্যবান’ মোহাম্মদ মিঠুন, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও ফরহাদ রেজাকে আউট করে আলিস ইসলাম পূর্ণ করেন এবারের বিপিএলের প্রথম হ্যাটট্রিক।
এরপরও অবশ্য জয়ের সুযোগ ছিল রংপুরের। শেষ দুই ওভারে তাদের দরকার ছিল ২২ রান। কিন্তু সুনিল নারাইন পরের ওভারে সোহাগ গাজী ও বেনি হাওয়েলকে ফিরিয়ে দিলে ঢাকার জয়টা স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে নাটক হয়েছে এরপরও। শেষ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ১৪ রান। বল করতে আসেন হ্যাটট্রিক নায়ক আলিস। তার প্রথম দুই বলেই দুই বাউন্ডারি মারেন শফিউল ইসলাম।
সমীকরণ তখন রংপুরের হাতের নাগালে। ৪ বলে দরকার ৬ রান। পরের বলে শফিউল নিলেন ১ রান। ৩ বলে দরকার ৫। পরের বলটিতে নাজমুল ইসলাম রান নিতে ব্যর্থ। ২ বলে ৫। পরের বলে নাজমুল নিলেন ১ রান। শেষ বলে দরকার ৪। কিন্তু আলিসের গুড লেন্থের বলটিতে ১ রানের বেশি নিতে পারেননি শফিউল। ফলে জয় থেকে ৩ রান দূরেই থামে তাদের দৌড়। ঢাকা পেয়ে যায় অবিশ্বাস্য এক জয়।
শেষ দিকের ওই নাটকে ভেসে গেছে রাইলি রোসোর ৪৪ বলে ৮৩ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি। ভেসে গেছে সৌভাগ্যবান মিঠুনের ৪৯ রানের ইনিংসটিও। ১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে রংপুর ২৫ রানেই হারিয়ে ফেলে ২ উইকেট। এরপর রোসো ও মিঠুন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ১২১ রানের জুটি। যে জুটি সহজ করে দিয়েছিল রংপুরের জয়ের পথ। কিন্তু শেষ পয়ৃন্ত সেই সহজ রাস্তাটাও হয়ে গেল অনতিক্রম্য।
মিঠুনকে মহাসৌভাগ্যবান আখ্যা দেওয়ার কারণটাও স্পষ্টই। ৪৯ রানের ইনিংসের পথে মোট ৩ বার জীবন পেয়েছেন তিনি! প্রথমে শূন্য রানে দাঁড়িয়ে। এরপর ১৮ ও ১৯ রানে দাঁড়িয়ে। এর মধ্যে মিঠুনের শেষ দুটি ক্যাচ মিস করেন আলিস। আলিস পরে ক্যাচ মিসের হতাশা পুষিয়ে দিলেও মিঠুন ৩ বার জীবন পেয়েও এক অর্থে ব্যর্থ। দলকে জয় এনে দিতে পারলেন না তিনি।
৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে অভিষেকেই হ্যাটট্রিকসহ ৪ উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটি পেয়েছেন আলিস ইসলামই। তবে ম্যাচসেরার অন্যতম দাবিদার ছিলেন তার সতীর্থ কাইরন পোলার্ডও। ক্যারিবয়ী এই ব্যাটসম্যানের কাঁধে চেপেই ১৮৩ রানের লড়াকু পুঁজি পায় ঢাকা। তিনি মাত্র ২৬ বলে করেন ৬২ রান। এছাড়া অধিনায়ক সাকিব ৩৭ বলে ৩৬, আন্দ্রে রাসেল ১৩ বলে ২৩, রনি তালুকদার ৮ বলে ১৮ রান করেন।
উল্লেখ্য, এ নিয়ে টানা তিন ম্যাচেই জিতল ঢাকা। অন্যদিকে ৪ ম্যাচে মাশরাফির রংপুরের এটা দ্বিতীয় হার।

Please follow and like us:
2