আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট শুরু

আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কড়া নিরাপত্তা এবং জঙ্গি হামলার হুমকি মাথায় নিয়েই আফগানিস্তানে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে। দেশটির স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র জাবি সাদাৎ বলেন, “শনিবার দেশজুড়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোট শুরু হওয়ার আগেই ভোটারদের কেন্দ্রের সামনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে যেতে দেখে নিজদের ধন্য মনে হচ্ছে।”
যদিও শুক্রবার রাতেও অনেক কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জামাদি পৌঁছানি বলে খবর দিয়েছিল কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
তখন নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, শনিবার সকালের মধ্যেই সব কিছু ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যাবে বলে তারা আশা করছেন। প্রায় দেড় যুগ ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে দেশে শান্তি ফেরানোর পথরেখা তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে গত দুই বছর ধরে আফগান তালেবানের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। ওই আলোচনায় একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার আশায় দেশটিতে দুই দফা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও পেছানো হয়। কিন্তু এ মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র-তালেবান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোটের তারিখ ঘোষণা করে আফগান সরকার। একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার খুব কাছে পৌঁছেগিয়েও শেষ পর্যন্ত আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ তালেবান নেতারা ভোট বানচাল করতে ভোটকেন্দ্রে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে বলে জানায় বিবিসি। ভোট গ্রহণ শুরুর পরপরই দক্ষিণের নগরী কান্দাহারে একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে; বিস্ফোরণে কয়েক আহত হয়েছেন। ভোটের লড়াইয়ে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দুই চেনা মুখ বর্তমান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি এবং প্রধান নির্বাহী আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ। এই দুইজনই ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতা ভাগাভাগি করে দেশ পরিচালনা করছেন। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বাহিনী অভিযান চালিয়ে আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে উৎখাত করে।
তারপর থেকেই দেশটিতে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। এখনো প্রায় ১৪ হাজার মার্কিন সেনা দেশটিতে মোতায়েন আছে। যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালিসহ আরো কয়েকটি দেশের কয়েক হাজার সেনাও সেখানে যুদ্ধ করছেন। বিবিসির এক গবেষণা ফলাফলে দেখা গেছে, আফগানিস্তানে গড়ে প্রতিদিন ৭৪ জন নিহত হয়।
কিভাবে ভোট: প্রথম দফা ভোটে যদি কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পান তবে দ্বিতীয় দফায় আবারও সরাসরি ভোট গ্রহণ হবে। ভোট গ্রহণের তিন সপ্তাহ পর ফলাফল ঘোষণা করা হবে। যদি দ্বিতীয় দফায় ভোট গ্রহণ প্রয়োজন হয় তবে তা নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। শনিবার দেশজুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ চলে। ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণের পাশাপাশি কয়েকটি কেন্দ্রে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতেও ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

Please follow and like us: