বুধ. জুলা ১৭, ২০১৯

আতলেতিকোকে হারিয়ে দুইয়ে রিয়াল

আতলেতিকোকে হারিয়ে দুইয়ে রিয়াল

Last Updated on

ক্রীড়া ডেস্ক : কাসেমিরোর অসাধারণ এক গোলে দুর্দান্ত শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদ। পাল্টা জবাব দিতে মোটেও দেরি করেনি আতলেতিকো মাদ্রিদ। তবে উজ্জীবিত নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের আটকাতে পারেনি দিয়েগো সিমেওনের দল। দারুণ এক জয়ে লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে প্রতিযোগিতার সফলতম দলটি। ওয়ান্দা মেত্রোপলিতানো স্টেডিয়ামে শনিবার স্থানীয় সময় বিকালে শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আতলেতিকোকে ৩-১ গোলে হারায় রিয়াল। গত সেপ্টেম্বরে সান্তিয়াগো বের্নাবেউয়ে দুই দলের ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। রিয়ালের বাকি দুই গোলদাতা সের্হিও রামোস ও গ্যারেথ বেল। দর্শনীয় এক গোলে ম্যাচের ষষ্ঠদশ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন কাসেমিরো। টনি ক্রুসের কর্নার ডিফেন্ডাররা বিপদমুক্ত করতে ব্যর্থ হলে ছোট ডি-বক্সে বল পেয়ে অনেকটা বাইসাইকেল কিকের মতো নেওয়া ভলিতে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ব্রাজিলিয়ান এই মিডফিল্ডার। পাঁচ মিনিট পরেই ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারতো। তবে ভিনিসিউস জুনিয়রের পাস ডি-বক্সের মুখে পেয়ে উড়িয়ে মারেন লুকাস ভাসকেস।
২৫তম মিনিটে দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে সমতায় ফেরে স্বাগতিকরা। মাঝমাঠে ভিনিসিউসের পা থেকে বল কেড়ে আনহেল কোররেয়া বাড়ান অঁতোয়ান গ্রিজমানকে। দ্রুত ছুটে কাসেমিরো ও ভারানেকে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়ার দুপায়ের ফাঁক দিয়ে বল ঠিকানায় পাঠান বিশ্বকাপ জয়ী ফরাসি ফরোয়ার্ড। চলতি লিগে এটা তার ১১তম গোল। দুই মিনিট পর গ্রিজমানের হাফ-ভলি অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩১তম মিনিটে তার আরেকটি প্রচেষ্টাও ক্রসবারের একটু উপর দিয়ে চলে যায়। ৪৩তম মিনিটে রামোসের স্পট কিকে আবারও এগিয়ে যায় রিয়াল। বাঁ দিক দিয়ে ডি-বক্সে ঢোকা ভিনিসিউসকে পেছন থেকে উরুগুয়ের ডিফেন্ডার হোসে হিমেনেস ফাউল করলে ভিএআরের সাহায্যে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এবারের লিগে রিয়াল অধিনায়কের এটা ষষ্ঠ গোল।
দ্বিতীয়ার্ধের অষ্টম মিনিটে মাঝমাঠের আগে থেকে সতীর্থের উঁচু করে বাড়ানো বল দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আগুয়ান গোলরক্ষকের উপর দিয়ে জালে জড়ান আলতেকোর আলভারো মোরাতা। তবে স্প্যানিশ এই স্ট্রাইকার অফসাইডে থাকায় ভিএআরের সাহায্য নিয়ে গোল দেননি রেফারি। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের জমজমাট লড়াইয়ের মাঝে দুদলের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষাও ছড়ায় বাড়তি উত্তেজনা। ৫৮ থেকে ৭২তম মিনিটের মধ্যে ছয়জনকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি। এর মধ্যে চার জন আতলেতিকোর। ৫৮তম মিনিটে তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিউসকে বসিয়ে বেলকে নামান কোচ। ৭৪তম মিনিটে ব্যবধান বাড়িয়ে কোচের আস্থার প্রতিদান দেন তিনি। লুকা মদ্রিচের পাস ডি-বক্সে পেয়ে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন ওয়েলসের এই ফরোয়ার্ড। ম্যাচে মোট ৩৭ বার ফাউলের বাঁশি বাজিয়েছেন রেফারি; আতলেতিকো করেছে ২১টি, রিয়াল ১৬। আর মোট ১১ বার হলুদ কার্ড দেখিয়েছেন রেফারি। এর মধ্যে আতলেতিকোর মিডফিল্ডার টমাস মার্টে ৮০তম মিনিটে ক্রুসকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এক জন কম নিয়ে বাকি সময়ে আর তেমন লড়াই-ই করতে পারেনি আতলেতিকো। সাত মিনিট পর সব অনিশ্চয়তার ইতি টানার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন বেল। কিন্তু করিম বেনজেমার ক্রস ফাঁকায় পেয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হেড করেন নিজেকে খুঁজে ফেরা এই উইঙ্গার। ২৩ ম্যাচে ১৪ জয় ও তিন ড্রয়ে দ্বিতীয় স্থানে ওঠা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ৪৫। তিন নম্বরে নেমে যাওয়া আতলেতিকোর পয়েন্ট ৪৪। এক ম্যাচ কম খেলা বার্সেলোনা ৫০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা।

Please follow and like us:
0