মঙ্গল. জুন ২৫, ২০১৯

আতর রপ্তানিতে হাজার কোটি টাকা আয়

আতর রপ্তানিতে হাজার কোটি টাকা আয়

Last Updated on

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : আতর রপ্তানি করে প্রতিবছর ৮০০-১০০০ কোটি টাকার মতো বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। যা দেশের রপ্তানি খাতে বড় ধরনের অবদান রাখতে পারে। ২০১৩ সালে আগর-আতরকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হলেও উৎপাদনে আধুনিক কোনো পদ্ধতি ও পরীক্ষাগার না থাকায় মান নিয়ে সমস্যা, সাইটিস সার্টিফিকেট, এইচএস কোডসহ নানাবধ জটিলতায় রপ্তানিতে বাধা তৈরি হচ্ছে। ফলে অবৈধ পথে এ পণ্য চলে যাচ্ছে দেশের বাইরে। আর সরকার হারাচ্ছে বিপুল অংকের রাজস্ব। এজন্য দেশের স্বার্থে আধুনিক পদ্ধতিতে আতর সংগ্রহসহ এ শিল্পের সমস্যা সমাধানের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রসঙ্গত, মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজানগরে সনাতন পদ্ধতিতে গড়ে ওঠা আগর-আতর শিল্পকারখানায় তৈরি হচ্ছে দেশের ‘তরল সোনা’ আতর। ভারত, সিঙ্গাপুর এবং মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশেই রপ্তানি হচ্ছে পণ্যটি। সুজানগরের কয়েকটি কারখানায় রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশে একমাত্র শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্প হলেও আগর থেকে আতর উৎপাদনে আধুনিক কোনো পদ্ধতি এখনো ব্যবহার হচ্ছে না। এখানে কোনো আধুনিক পরীক্ষাগার নেই। আগর থেকে উৎপাদিত প্রতি তোলা ভাল মানের আতরের দাম ৬ হাজার টাকার বেশি। আর নিম্নমানের আতর আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকা তোলা। সে হিসেবে এক লিটার ভালো মানের আতরের বাজারমূল্য ৬ লাখ টাকার বেশি। কিন্তু বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ পণ্য রপ্তানিতে সাইটিস সার্টিফিকেট ইস্যুর ক্ষেত্রে জটিলতায় অনেক সময় আন্তর্জাতিক ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যায়। এছাড়া বিমানবন্দরে নানা জটিলতায় অনেকে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এ পণ্য রপ্তানি করছেন। বাংলাদেশ আগর অ্যান্ড আতর ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আনসারুল হক বলেন, বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় হাজার কোটি টাকার আতর রপ্তানি হয়ে থাকে। তবে আতর রপ্তানিতে সাইটিস সনদ (বন ও পরিবেশ বিভাগের ছাড়পত্র) সংগ্রহ করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সময়মতো এ সনদ না পাওয়ায় বিদেশে পণ্য পাঠাতে দেরি হচ্ছে। এছাড়া কারখানাগুলোয় গ্যাস সমস্যার কারণে উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রায় ৪০০ বছর ধরে বড়লেখা উপজেলার সুজানগরের আগর-আতর ক্লাস্টারের সমাদর রয়েছে। এখানকার তৈরি আতর সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশ এবং ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে। বিদেশে আতরের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও সে অনুযায়ী উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছেনা। আবার যতটুকু উৎপাদন হচ্ছে তাও সরবরাহ করতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
জানা যায়, বড়লেখার সুজানগর, রফিনগর, বড়থল ও হালিজপুর গ্রামে আগর চাষ হচ্ছে। এখানে ৩৫০টির বেশি ছোট-বড় আতর তৈরির কারখানা রয়েছে। এ শিল্পে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার নারী-পুরুষ। প্রত্যেক শ্রমিক দৈনিক ২৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পেয়ে থাকেন। প্রতি বছর এখানে উৎপাদন হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার লিটার আতর।

Please follow and like us:
0