মঙ্গল. অক্টো ১৫, ২০১৯

আজ শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর

আজ শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর

Last Updated on

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রথমে ৫ অক্টোবর শুরুর কথা ছিল। পরে তা পিছিয়ে করা হলো, ৭ অক্টোবর। সেটাও বহাল থাকেনি। আরও এক দফা পিছিয়ে অবশেষে আজ ১০ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের মূল আসর জাতীয় লিগ। এটা হবে জাতীয় লিগের ২১ নম্বর আসর।
আগের মতো আট দল দুই স্তরে বিভক্ত হয়ে খেলবে। চার ভেন্যুতে হবে এবারের খেলা। প্রথম স্তরে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা এবং ঢাকা বিভাগ। আর দ্বিতীয় স্তরের চার দল হলো বরিশাল, ঢাকা মেট্রো, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ। আজ বৃহস্পতিবার প্রথম দিন রাজধানী ঢাকার মিরপুরের শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় স্তরের দুই দল ঢাকা মেট্রো আর চট্টগ্রাম বিভাগ। দেশের শীর্ষ অন্যতম তারকা এবং ‘পঞ্চ পান্ডবের’ অন্যতম সদস্য তামিম ইকবাল দলে থাকার পরও চট্টগ্রাম বিভাগকে নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় দলের বাঁহাতি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক। একইভাবে পঞ্চ পান্ডবের আরেক সদস্য এবং এ মুহূর্তে জাতীয় দলের অন্যতম সিনিয়র সদস্য অলরাউন্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দলে থাকলেও ঢাকা মেট্রোর নেতৃত্বে থাকবেন জাতীয় দলের সাবেক মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান মার্শাল আইয়্যুব।
এদিকে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া এবারের জাতীয় লিগের উদ্বোধনী পর্বের অপর তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম, খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়াম ও রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে। নারায়নগঞ্জের ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে প্রথম স্তরের দুই দল ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগ। এছাড়া খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে শুরু হবে প্রথম স্তরের রংপুর আর খুলনা বিভাগের খেলা। অন্যদিকে রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে দেখা হবে দ্বিতীয় স্তরের দুই দল বরিশাল আর সিলেটের। ১০-১৩ অক্টোবর প্রথম পর্ব শেষের পর তিনদিন বিরতি। এরপর ১৭ অক্টোবর শুরু দ্বিতীয় রাউন্ড। ওই পর্বে ঢাকার শেরে বাংলায় কোন খেলা নেই। খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে খুলনা ও রাজশাহী। আর রংপুর ও ঢাকা বিভাগ লড়বে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের খেলা হবে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে এবং ঢাকা মেট্রো ও সিলেট বিভাগ প্রতিদ্বন্দ্বীতা হবে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে।
কে পাচ্ছে কত টাকা করে : এবারের লিগ শুরুর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়ে জানানো হয়েছিল, অংশগ্রহণ ফি, ম্যাচ ফি, বোনাসসহ অন্যান্য ফি বাড়ানো হবে। কিন্তু অনেক আশার বাণী শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত অংশগ্রহণ ফি থেকে শুরু করে প্রাইজমানির কিছুই সে অর্থে বাড়েনি এবারের জাতীয় লিগে। এবারও প্রথম স্তরের ক্রিকেটাররা এক ম্যাচ খেলে পাবেন ৩৫ হাজার টাকা করে। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচ ফি করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা করে। অবশ্য এই ম্যাচ ফি’তে আর কোন ক্যাটাগরি থাকবে না। অর্থ্যাৎ প্রতি ম্যাচে যারা খেলবেন, স্তর অনুযায়ী (প্রথম স্তর, দ্বিতীয় স্তর) সবাই একই পরিমাণ অর্থ তথা ম্যাচ ফি পাবেন। দুই স্তরের ৮ দলই অংশগ্রহণ বাবদ পাচ্ছে ৬ লাখ টাকা করে। প্রথম স্তরের চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য থাকবে ২০ লাখ টাকা। অন্যদিকে রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্তরের চ্যাম্পিয়ন দলের প্রাইজমানি ৫ লাখ টাকা করে। তবে এই স্তরের রানার্সআপের জন্য কোনো অর্থ পুরষ্কার বরাদ্দ নেই। এছাড়া পুরো জাতীয় লিগে ক্রিকেটারদের জন্য আর্থিক সুযোগ সুবিধা নিম্নরূপ : দৈনিক ভাতা : ১৫০০ টাকা (দুই স্তরের ক্রিকেটারদের জন্য সমান)। যাতায়াত ভাতা : ২৫০০ টাকা (দুই স্তরের ক্রিকেটারদের জন্য সমান)। প্রতি ম্যাচের সেরা পারফরমার : ২৫ হাজার টাকা (প্রথম স্তরের জন্য)। আসর সেরা পারফরমার : ১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচ সেরা পারফরমার : ২০ হাজার টাকা। দ্বিতীয় স্তরের টুর্নামেন্ট সেরা : ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারি এবং সর্বাধিক উইকেট শিকারীকে অর্থ পুরষ্কার দেয়া হবে। প্রথম স্তরের সর্বাধিক রান সংগ্রহকারী পাবেন ৭৫ হাজার টাকা। দ্বিতীয় স্তরের টপ স্কোরারকে দেয়া হবে ৫০ হাজার টাকা। একই ভাবে প্রথম স্তরের সর্বাধিক উইকেট শিকারীর জন্য থাকবে ৭৫ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় স্তরের সর্বাধিক উইকেট শিকারী পাবেন ৫০ হাজার টাকা করে। উইনিং বোনাস : প্রথম স্তরের জন্য ৮০ হাজার টাকা। এবং দ্বিতীয় স্তরের প্রতি ম্যাচের বিজয়ী দলের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে।

Please follow and like us:
2