বৃহঃ. আগ ২২, ২০১৯

অল্প বৃষ্টিতেই যে কারণে ডুবে যায় ঢাকা

অল্প বৃষ্টিতেই যে কারণে ডুবে যায় ঢাকা

Last Updated on

মহানগর ডেস্ক : এবছর জুন-জুলাই মাসে ঢাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতই হয়েছে৷ বরং চলতি বছরের জুন মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল গত বছরের তুলনায় কম। সাধারণভাবে ৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি না হলে ঢাকায় জলাবদ্ধতা হওয়ার কথা নয়৷ কিন্তু এখন সাধারণ বৃষ্টিতেই ডুবে যায় দেড় কোটির বেশি মানুষের ঢাকা শহর৷ সৃষ্টি হয় ভোগান্তির৷ কী এর কারণ?
গত ১২ জুলাই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যায় ঢাকার অধিকাংশ এলাকা৷ নিচু এলাকাতো বটেই বঙ্গবভন, গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট এলাকাও চলে যায় পানির নিচে৷ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ওইদিন ঢাকায় ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল ৮১ মিলিমিটার৷ বৃষ্টিপাতের ফলে তৈরি হওয়া এ জলাবদ্ধতা ছয়-সাত ঘণ্টা স্থায়ী হয়ছিল৷ তবে ওই দিন শুক্রবার হওয়ায় নগরবাসী পানিবন্দি হয়ে ঘরে কাটিয়েছেন৷ কিন্তু নগরবাসী ঘরে থাকলেও পানিতো তার স্বভাব-ধর্মে ঢুকে পড়ে বাড়ি ঘরেও৷ বাংলামটর, শান্তিনগর, ইস্কাটন, মগবাজার, কারওয়ান বাজারের মতো এলাকায় অনেক বাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে গিয়েছিল বলে জানা গেছে৷ আর মিরপুরেতো কথাই নেই৷ মোহাম্মদপুর এলাকেতেও একই অবস্থা৷ ঢাকা শহরের নিচু এলাকাগুলো যেমন, রামপুরা, বাড্ডার মত এলাকাতো বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতার শিকার হয়৷
জুলাই মাসের ওই দিনই হয়েছিল সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত৷ তার পরদিন অর্থাৎ ১৩ জুলাই ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে বলে জানা গেছে৷ ফলে জলজটে নগরবাসী দুর্ভোগে ছিলেন টানা দুই দিন৷
অতীতের পর্যবেক্ষণ বলছে, সাধারণত ৪০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টি হলে ঢাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয় না৷ ১২ জুলাই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল তার দ্বিগুণ৷ আর পর পর দুই দিনে মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল ১৪৭ মিলিমিটার৷ তবে অতীতের এ পর্যবেক্ষণ আর মিলছে না৷ অল্প বৃষ্টিতেই ঢাকায় এখন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়৷ আর চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী৷ যদি গত শুক্রবারের (২৬ জুলাই) কথা ধরি তাহলে তার প্রমাণ মেলে৷ ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৩১ মিলিমিটার৷ এদিনও ছিল শুক্রবার৷ যে কারণে, দুর্ভোগ এড়িয়ে যেতে পেরেছেন নগরবাসীর অনেকেই৷ কিন্তু সাধারণ দুর্ভোগতো ছিলই৷ একইভাবে ৮ জুলাই, ১১ জুলাই ও ১৪ জুলাই ২০ থেকে ৩৯ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে৷ এই বৃষ্টিতেও পানি জমে গিয়েছিল ঢাকার রাস্তায়৷ ফলে একদিকে যেমন বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে যায় অন্যদিকে রাস্তায় যান চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে৷ যে কারণে ঘরে-বাইরে দু’দিকেই নগরবাসীকে পোহাতে হয় দুর্ভোগ৷ ঢাকায় এবার জুন মাসে মোট ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কম৷ গত বছর জুন মাসে ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৩০৮ মিলিমিটার৷ আর গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকায় মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ৩৫৭ মিলিমিটার৷ চলতি জুলাইয়ের ২৬ দিনে বৃষ্টি হয়েছে ৩২০ মিলিমিটার৷
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘‘জুন-জুলাই মাসে এরমকই বৃষ্টিপাত হয়৷ আমাদের কাছে যে গড় রেকর্ড রয়েছে তাতে এটা স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত৷ তবে আমরা ঢাকায় বৃষ্টিপাতের হিসাব করি আগারগাঁও এলাকার হিসেবে৷ হয়তো ঢাকার অন্য এলাকায় এর চেয়ে কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।’
তাহলে প্রশ্ন হলো একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকায় কেন জলাবদ্ধতা তৈরি হয়? আর এর জবাবে যা জানা গেল তার মূল কথা হলো, ঢাকার বৃষ্টির পানি সহজে সরতে পারে না৷
স্থপতি ও নগর পরিকল্পনাবিদ মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘‘সামনে আরও বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে৷ ঘরে ঘরে পানি ঢুকবে৷কারণ উন্নয়নের নামে বিশেষ করে মেট্রোরেলের জন্য ঢাকা শহরের ড্রেনেজ সিস্টেম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে৷ পানি সরতে পারছে না৷ আবার ড্রেন যা আছে তাও কার্যকর নয়৷ বক্স কালভার্টের গভীরতা ছিল নয় ফুট থেকে ১১ ফুট৷ এখন আছে দেড় ফুট থেকে দুই ফুট।’
তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন মিলিয়ে ২৫ হাজার কিলোমিটার খোলা এবং চার হাজার কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ ড্রেন আছে৷ ঢাকা ওয়াসার ৬৫ কিলোমিটার খোলা খাল ও বক্সকালভার্ট আছে৷ কিন্তু এসবের কিছুই তেমন কাজে আসে না৷ এর সাথে যুক্ত হয়েছে রাজধানীবাসীর বর্জ্য৷ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানী ঢাকায় প্রতিদিন ছয় হাজার ১১০ টন গৃহস্থালি বর্জ্য উৎপাদিত হচ্ছে৷ -ডয়চে ভেলে

Please follow and like us:
2