রবি. জুলা ২১, ২০১৯

অবিলম্বে নির্বাচন দাবি বিএনপির

অবিলম্বে নির্বাচন দাবি বিএনপির

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : অবিলম্বে জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল সোমবার দুপুরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ দাবি জানান। তিনি বলেন, জনগণের নির্বাচিত পার্লামেন্ট ও সরকার গঠনের লক্ষ্যে অবিলম্বে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, যেহেতু বর্তমান পার্লামেন্ট জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল জবরদস্তি করে নিজেদের পক্ষে নিয়েছে, সেই কারণে জনগণের কাছে কোনো প্রতিষ্ঠান জবাবদিহিতার সুযোগ নেই। ফলে রাষ্ট্রের সব ক্ষেত্রে নৈরাজ্য সৃষ্টি হচ্ছে। বিচার বিভাগ ও এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়।
ফখরুল বলেন, জনগণের আশ্রয়ের শেষ স্থল বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে একদলীয় শাসনব্যবস্থা একনায়ক তন্ত্র ও ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।
বিচার বিভাগে দলীয় লোক নিয়োগের কারণে সেখানকার পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটেছে মন্তব্য করে ফখরুল আরও বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলায় বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতার ট্রেনের উপর হামলা সংক্রান্ত মামলায় নিম্ন আদালত যে রায় দেয়া হয়েছে তা বিচার ব্যবস্থায় একই চিত্র তুলে ধরেছে। এ মামলায় ৯ জনের মৃত্যুদণ্ড ২৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে সমগ্র জাতিকে বিস্মিত, হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে।
ফখরুল বলেন, ১৯৯৪ সালে ঈশ্বরদীতে সংঘটিত এ মামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একটি রাজনৈতিক দলের প্রায় সব নেতাকে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত করে তিন বৎসর পর অভিযোগপত্র দিয়ে ২৫ বছর পর এ আদেশ প্রমাণ করে যে, এ আদেশ ন্যায়বিচারের পরিপন্থী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, এ রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হলো বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ রূপে ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, যেখানে মৃত্যুই হলো না সেখানে মৃত্যুদণ্ড। এ প্রসঙ্গে আর কী বলব? গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করেছে সেখান থেকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সোমবার বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল সংবাদ সম্মেলনে কিছু বলতে রাজি হননি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কায়সার কামাল, সহ আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মেজবাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:
2