মঙ্গল. জুন ১৮, ২০১৯

অবকাঠামোগত উন্নয়নে অপর্যাপ্ত মূলধনই চ্যালেঞ্জ : বিসিআইএম

অবকাঠামোগত উন্নয়নে অপর্যাপ্ত

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : অবকাঠামোগত উন্নয়নে মূলধনের অপর্যাপ্ততাকে চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডর বিসিআইএম। গতকাল মঙ্গলবার চীনের ইউনান প্রদেশের ইউশি শহরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার বিসিআইএম-ইসির ১৩তম সহযোগিতা বৈঠকে দেয়া যৌথ বিবৃতিতে এ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে একমত হয়েছে চার দেশ। বৈঠক শেষে সদস্য রাষ্ট্রগুলো ১২টি বিষয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি যৌথ বিবৃতি সই করে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নে মূলধনের অপর্যাপ্ততার কথা উল্লেখ করে এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী বিসিআইএম-ইসিতে সম্পৃক্ত করার পক্ষে মত দেয় সদস্য রাষ্ট্রগুলো, যা দিয়ে অর্থনৈতিক সম্পদের দক্ষ ব্যবহার সম্ভব। দক্ষ এবং স্বচ্ছ ব্যবসায়িক পরিবেশ ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্ব দেয় বিসিআইএম ফোরাম।
বিসিআইএম ইসির ১৩তম সহযোগিতা ফোরামের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। চীনের পক্ষে ইউনান প্রদেশের সিপিপিসি এর ভাইস চেয়ারম্যান গাও ফ্যাং, ভারতের পক্ষে বিসিআইএম-ইসির যৌথ স্টাডি গ্রুপের প্রধান সাবেক রাষ্ট্রদূত রজিত মিত্র এবং মিয়ানমারের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক সংস্থা ও অর্থনৈতিক বিভাগের উপ মহাপরিচালক উইন জেয়ার।
আগামী বিসিআইএম-ইসি ১৪তম সহযোগিতা বৈঠকটি ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে সব পক্ষ একমত হয়। বৈঠকে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম ফজলুল করিম, অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক রওনক জাহানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আঞ্চলিক একীভূতকরণের মাধ্যমে এ অঞ্চলের জনগণকে লাভবান করার সকল উপাদন বিসিআইএম ফোরামের মধ্যে রয়েছে। অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতি, জীবনযাপনের সাদৃশ্যতা এবং সর্বোপরি আমাদের উন্নয়নের জন্য অভিন্ন লক্ষ্য হলো, এ অঞ্চলের শক্তি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৮ দশমিক ১৩ শতাংশসহ বিসিআইএম এর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অর্থনৈতিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য এবং এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সুতরাং আন্তঃআঞ্চলিক এ সহযোগিতা দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুত ক্রমবর্ধমান বাজারের সঙ্গে পূর্ব এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
যৌথ বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ২০ বছরের বিসিআইম এর সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। চারটি দেশের ঐকমত্যের ভিত্তিতে, পলিসি ডায়ালগ, উন্নয়ন কৌশলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং সব খাতের মধ্যে সহযোগিতা বিনিময়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা, স্থিতিশীলতা এবং উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে।
বিসিআইএম ইসির যৌথ স্টাডি গ্রুপ এ অঞ্চলিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করে চার দেশ। যৌথ স্টাডি গ্রুপের প্রতিবেদন সম্পন্ন করতে বিসিআইএম ফোরাম সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে পারে বলে যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়, জ্বালানি, ডিজিটাল খাত, সড়ক, রেল, নৌ এবং বিমান পথে চারটি দেশর মধ্যে সামগ্রিক সংযোগ এ অঞ্চলে প্রতিযোগিতা বাড়াবে। ফলে বিসিআইএম-ইসি গঠনের জন্য সামনের দিনগুলোতে আরও গভীর সহযোগিতা ও দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন। এ সময়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়নে অপর্যাপ্ত মূলধন একটি চ্যালেঞ্জ বলে বৈঠকে একমত হয় চার দেশ।
এতে বলা হয়, সামনের দিনগুলোতে অঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন, বাণিজ্য বিনিময় ও সীমান্তে বাণিজ্য সুবিধা, মুক্ত বাণিজ্য এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানায় দেশগুলো। এক্ষেত্রে দেশগুলো এসএমই প্রতিষ্ঠান, ই-বাণিজ্য এবং অন্যান্য আন্তঃদেশীয় বাণিজ্যের উন্নয়নে সমর্থন দিতে একমত হয়েছে। বিসিআইএম বিজনেজ কাউন্সিলের প্রশংসা করে দেশগুলোর সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে এ অঞ্চলে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক প্রদর্শনীতে অংশ নিতে উৎসাহিত করা হয়েছে। থিংক ট্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগের মাধ্যমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাখাতে সহযোগিতা বাড়াতে একমত হয়েছে দেশগুলো। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জনস্বাস্থ্য, পর্যটন, পরিবেশগত সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণের মতো বিষয়গুলোতে সহযোগিতা বাড়ানো উচিৎ বলে সদস্য রাষ্ট্রগুলো একমত হয়েছে।

Please follow and like us:
2