অফিসে কাজের পরিবেশ যদি অসহনীয় হয়

অফিসে কাজের পরিবেশ যদি অসহনীয় হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক : অগ্রহণযোগ্য ব্যাপার: অফিসে হয়তো আপনি একাই দুই তিন জনের কাজ করেন প্রতিদিন, কিন্তু সহকর্মী বা বসের কাছ থেকে এ বিষয়ে স্বীকৃতি পান না বলা চলে। কিছু সহকর্মী প্রায় সময় আপনার বিভিন্ন আইডিয়া চুরি করে প্রশংসা আদায় করে। আপনার বস বা সহকর্মীরা নিজেদের ব্যর্থতার দায়ভার অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেন প্রায় সময়।
অনৈতিক ও অবৈধ কাজ: সহকর্মীরা যদি তাদের জন্য আপনাকে মিথ্যা বলতে অনুরোধ বা বাধ্য করে। ঊর্ধ্বতন বস যদি আপনাকে মিথ্যা, বানোয়াট তথ্য, রিপোর্ট বা ডকুমেন্ট লিখতে বলে। কোনো সহকর্মী অফিসে অন্য সহকর্মীর সাথে প্রেম করছেন এবং আপনাকে এ বিষয়ে বস বা অন্যদের কাছে মিথ্যা বলতে বলছেন।
বসের অশোভন ও সহকর্মীর অসহনীয় আচরণ: মেয়ে বলে বস বা সিনিয়র কর্মকর্তারা যদি অফিসে আপনি ও অন্য মেয়েদের উপর যৌন হয়রানি করে। সহকর্মীরা প্রতিদিন নিজেদের নির্দিষ্ট ও বেঁধে দেয়া সময়ে কাজ করতে পারে না, যার প্রভাব পড়ে আপনার উপর। কোনো সহকর্মী বা বস যদি প্রতিনিয়ত কামলালসা পূর্ণ বা বর্ণবিদ্বেষী জোক করেন। বস বা সহকর্মীরা যদি সব সময় ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে।
ক্ষতির আশঙ্কা: অফিসের অবস্থানগত কারণে আপনি বা অন্য সহকর্মীরা যদি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। অফিসের বাইরে থেকে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ বা সন্ত্রাসী আপনাকে বা অফিসের সবাইকে হত্যা বা হামলার হুমকি দিলে।
বিরক্তিকর পরিস্থিতি: সহকর্মীরা যদি আপনার কাজের ক্ষতি করে, আপনার রুমে অযাচিত দখলবাজি করে ও গোপন ফাইল সরিয়ে ফেলে। সব সময় যদি গুজব, রাজনৈতিক আলোচনা চলে আর গোপনীয়তা নষ্ট করা হয়।
উপরের সবগুলো ইস্যুই কাজের পরিবেশ অসহনীয় করে তোলার জন্য যথেষ্ট। যদি একাধিক ইস্যু আপনার ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে অফিসে কাজের পরিবেশ মোটেও সহনীয় নয়। অনেকেই এ ধরনের পরিস্থিতিতে পড়ে কিছু করার নেই বলে অসহায় অবস্থায় কাজ চালিয়ে যায়। তবে এতে সাধারণত তারা মানসিক ও শারীরিকভাবে দিনের পর দিন চাপ নিতে গিয়ে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে কিছু পন্থা অবলম্বন করে দেখতে পারেন আপনি।
পরিবেশ সুন্দর রাখুন: অফিসে কাজের পরিবেশ প্রতিকূল থাকলে, আপনার জন্য অসহনীয় হয়ে উঠলেও ভেঙে পড়বেন না। নিজের উদ্যোগে প্রথমে চেষ্টা করুন পরিবেশ শান্ত ও সুন্দর রাখার।
শান্তভাবে মোকাবেলা করুন: অফিসের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যা যেমন- গুজব ছড়ানো সহকর্মী, সময় নষ্ট করা সহকর্মী বা জটিলতা সৃষ্টিকারীদের শান্তভাবে মোকাবেলা করুন। যদি কেউ অফিসে খুব শব্দ করে কথা বলে তাকে হাসি মুখে বলুন- ‘আপনার কথা শুনতে ভালো লাগছে, কিন্তু কাজে মনোযোগ দিতে কষ্ট হচ্ছে।’ এভাবে বিরক্তিকর পরিস্থিতিগুলোতে সহকর্মীদের হাসি মুখে কাজের কথা স্মরণ করিয়ে দিন। বিরোধিতা বা ঝগড়া করার চেষ্টা করবেন না। কাউকে প্রথমেই দোষারোপ করবেন না।
বড় সমস্যাগুলো কর্তৃপক্ষকে জানান: ধরুন অফিসে কেউ ফোন করে বা চিঠি লিখে জানালো অমুক দিন, অমুক সময়ে অফিসে বোমা হামলা বা কোনো ধরনের হামলা করতে চায়। বিষয়টি চেপে না গিয়ে জানার সাথে সাথে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। একইভাবে অফিসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা কোনো সহকর্মীর আচরণ যদি দিন দিন খারাপ হয়ে বড় আকার ধারণ করে তাহলে এ বিষয়ে বসের সঙ্গে আলোচনা করুন।
চাকরি ছাড়ার পরিকল্পনা করতে পারেন: অনেক অফিসেই কাজের পরিবেশ এলোমেলো থাকে, এটাই হয়ে উঠে সেখানকার কালচার। এক্ষেত্রে যদি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বসদের কাছ থেকেই প্রতিনিয়ত অসহনীয় আচরণ সহ্য করতে হয় তাহলে চাকরি ছাড়ার পরিকল্পনা করতে পারেন আপনি।-

Please follow and like us: