শনি. মার্চ ২৩, ২০১৯

অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ

অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : কালের পরিক্রমায় বিদায় নিলো আরেকটি বছর, ২০১৮ সাল। আজ ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন; স্বাগত ২০১৯। কয়েক বছরের তুলনায় বিদায়ী বছরের ক্রমশ অগ্রসরমান বাংলাদেশের অর্জন ছিল অভুতপূর্ব। স্বাধীনতা লাভের ৪৭ বছর পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) শ্রেণি থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশকে কেউ আর ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলতে পারবে না। বিষয়টিকে স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম অর্জন এবং সম্মাননা বলে অভিহিত করেছেন সুধীসমাজ। এর বাইরে, চলতি বছরে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন- স্বপ্ন থেকে বাস্তবে পদ্মা সেতু। বিশ্বব্যাংক যখন এই প্রকল্প থেকে চলে যায়, তখন পদ্মা সেতু প্রকল্প অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকা পড়ে। অনেকেই ভেবেছিল, এই সেতু আর হবে না। কিন্তু সেই সেতুতে বসেছে স্প্যান, মূল সেতু এখন দৃশ্যমান। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য জাতীয় অর্জনের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, ঐতিহ্যের মসলিন ফেরানোর উদ্যোগে সফলতা, সফলভাবে দেশে ফোরজি চালু, পাটের পর ধইঞ্চা, ইলিশ এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জীবনরহস্য উন্মোচন, দেশের ল্যাপটপ তৈরির কারখানা চালু প্রভৃতি।

মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি অর্জন : চলতি বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও মহান স্বাধীনতার মাসে জাতিসংঘের উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের হাতে চিঠিটি তুলে দেন জাতিসংঘের সিপিডি সেক্রেটারিয়েটের প্রধান রোলান্ড মোলেরাস। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশ হবে বাংলাদেশ। যদিও তার জন্য দুই মেয়াদে (২০১৮ ও ২০২১ সাল) এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এ তিনটি সূচকের দুটিতে উত্তীর্ণ হলে কোনো দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

২০১৮ সালের পর্যালোচনায় এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা হিসেবে মাথাপিছু আয়ের মানদণ্ড ১২৩০ ডলার বা তার বেশি। কিন্তু গত তিন বছরে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১২৭২ ডলার। এবারের পর্যালোচনায় মানবসম্পদ সূচকে যোগ্যতা নিরূপণের জন্য স্কোর ধরা হয় ৬৬ বা তার বেশি। বাংলাদেশের স্কোর সেখানে ৭২ দশমিক ৮। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে যোগ্য হওয়ার নির্ধারিত স্কোর ছিল ৩২ বা তার কম। বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৫। বিশ্বব্যাংক মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করে। একটি হচ্ছে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ, অন্যটি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ। বাংলাদেশ এখন থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত হবে। প্রতিবছর ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় অনুসারে দেশগুলোকে চারটি আয় গ্রুপে ভাগ করে। যাদের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ৪৫ ডলার বা তার নিচে, তাদের বলা হয় নিম্ন আয়ের দেশ। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে এ তালিকাতেই ছিল।

পদ্মা সেতু দৃশ্যমান : একসময়ের স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। ইতোমধ্যে এর ৬০ ভাগ নির্মাণকাজ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নানা জটিলতার পর নিজস্ব অর্থায়নে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে সরকার। ২০১৯ সালে এই সেতুতে যান চলাচলের আশা করা হচ্ছে। আরো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে আরো দেড় হাজার কোটি টাকা। এই অঙ্ক নিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট নির্মাণ ব্যয় বেড়ে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ : বাঙালির স্বাধীনতা-সংগ্রামের স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। সেই স্লোগান বুকে নিয়েই মহাকাশের পথে উড়াল দেয় দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ১১ মে রাত ২টা ১৪ মিনিট) স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কে নিয়ে উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯ মহাকাশের পথে উড়ে যায়।

স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মূলত ‘কমিউনিকেশন এবং ব্রডকাস্টিং’ ক্যাটাগরির এ স্যাটেলাইট। অর্থাৎ এটি যোগাযোগ এবং সম্প্রচার কাজেই মূলত ব্যবহার করা হবে। এ স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করতে সক্ষম হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিবছর অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করে। বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ অর্থ বাংলাদেশেই থেকে যাবে। ফলে বড় অঙ্কের টাকার বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। দেশের বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ ব্যয়ও কমে আসবে। এছাড়া, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ফলে ব্যান্ডউইথের বিকল্প উৎসও পাওয়া যাবে। এই ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে।

ফিরছে ঐতিহ্যবাহী মসলিন : ফিরে আসছে হারিয়ে যাওয়া মসলিন শাড়ি। ৩০০ বছর পর পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘মসলিন’ কাপড় তৈরি শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ১৭০ গ্রাম ওজনের একটি শাড়ি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়া হয়েছে।

যে সুতা থেকে মসলিন তৈরি হতো, সেই ফুটি কার্পাস তুলাগাছের চাষও শুরু হয়েছে। মসলিনের ঐতিহ্য ফেরাতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (১ম পর্যায়) শীর্ষক’ প্রকল্প।

প্রসঙ্গত, আগের দিনে মসলিন হতো কাচের মতো স্বচ্ছ। এই মসলিন রাজকীয় পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। নানা কারণে আঠারো শতকের শেষার্ধে বাংলায় মসলিন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন এই অঞ্চলে প্রায় ২৮ প্রকারের মসলিনের প্রচলন ছিল। এর মধ্যে এখন শুধু জামদানি প্রচলিত রয়েছে।

ফোরজি চালু : দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) টেলিযোগাযোগ সেবা। ফেব্রুয়ারিতে চার মোবাইল ফোন অপারেটরকে ফোর-জি সেবার লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে দেশে এ সেবার যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো বাংলাদেশের।

ধইঞ্চার জীবনরহস্য উন্মোচন : কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণার সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা চলতি বছরে ধইঞ্চার জীবনরহস্য (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেছেন। প্রায় ১ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন বেস পেয়ার জিনোম আকারের দেশি ধইঞ্চার প্রায় ৪৯ হাজারটি জিন শনাক্ত করে অধিকাংশ জিনের কার্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছিল।

বর্তমানে ধইঞ্চার আঁশের মানোন্নয়নসহ প্রায়োগিক গবেষণা চলমান রয়েছে। ইতিপূর্বে সম্পন্নকৃত জিনোম গবেষণার ফলাফল বিএমসি জিনোমিক্স ও নেচার প্ল্যান্টের মতো বিশ্বখ্যাত জার্নালে প্রকাশের ধারাবাহিকতায় এ গবেষণার ফলাফলও অনুরূপ জার্নালে প্রকাশের পাশাপাশি মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের কার্যক্রম চলছে।

ধইঞ্চার জিনোম গবেষণার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো। বায়ুমণ্ডলে থাকা ৭৬ ভাগ নাইট্রোজেন প্রচলিত ফসল সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু দেশে প্রাচীনকাল হতে সবুজ সার হিসাবে ব্যবহৃত ধইঞ্চার শিকড় ও কাণ্ডে এক ধরনের নডিউল বা গুটি তৈরি হয় যাতে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন সঞ্চয়পূর্বক গাছকে সরবরাহ করে। ধইঞ্চার এ বৈশিষ্ট্য অন্যান্য ফসলে প্রয়োগের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় এবং উন্মোচন করা হয় ধইঞ্চার জীবন নকশা।

ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচন : ইলিশ মাছের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের দুটি দল। তারা পৃথকভাবে গবেষণা করে এই সাফল্য পেয়েছে। এই সফলতা ইলিশ মাছের সংরক্ষণ ও উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। একই সঙ্গে তা ইলিশ মাছের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতেও সহায়ক হবে।

ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনের কাজটি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসিনা খানের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল। এছাড়া, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলমের নেতৃত্বে আরেকটি গবেষক দলও ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচন গবেষণায় সাফল্য পেয়েছে। পৃথিবীর মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ হয় বাংলাদেশে। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে।

ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স জানার মাধ্যমে অসংখ্য অজানা প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে খুব সহজেই। বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে ইলিশের স্টকের (একটি এলাকায় মাছের বিস্তৃতির পরিসীমা) সংখ্যা কতটি এবং দেশের পদ্মা, মেঘনা নদীর মোহনায় প্রজননকারী ইলিশগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্টক কিনা তা জানা যাবে এই জিনোম সিকোয়েন্সর মাধ্যমে। বছরে দুইবার ইলিশ প্রজনন করে থাকে। জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে এই দুই সময়ের ইলিশ জীনগতভাবে পৃথক কিনা তা জানা যাবে। এমনকি কোনো নির্দিষ্ট নদীতে জন্ম নেওয়া পোনা সাগরে যাওয়ার পর বড় হয়ে প্রজননের জন্য আবার একই নদীতেই ফিরে আসে কি না, সেসব তথ্যও জানা যাবে এই জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে।

এরকম নতুন নতুন তথ্য উন্মোচনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে ইলিশের টেকসই আহরণ। ইলিশের জন্য দেশের কোথায় কোথায় ও কতটি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। দেশীয় ইলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের (ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য) ইলিশ থেকে জীনতাত্ত্বিকভাবে স্বতন্ত্র কিনা তাও নিশ্চত হওয়া যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সংবেদনশীল ও খাপ খাওয়ার জন্য নিয়ামক জিন আবিস্কারের মাধ্যমে ইলিশের বায়োলজির উপর বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরুপণ করাও সহজ হবে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জীবনরহস্য উন্মোচন : পৃথিবীর অন্যতম সেরা জাতের ছাগল ‘ব্ল্যাক বেঙ্গলের’ জীবনরহস্য উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন বিভাগের অধ্যাপক বজলুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে এই সাফল্য এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তিবিষয়ক সংস্থা এনসিবিআই থেকে তা নিবন্ধন পেয়েছে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস বিশ্বজুড়ে কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত, যা বিশ্বের অন্যতম সেরা ছাগলের মাংস হিসেবে সমাদৃত। এই উদ্ভাবন এই ছাগলের জাতের আরও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে, ওই ছাগলের ওজন ও মাংসের পরিমাণ বাড়ানো এবং মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

২০১৬ সালে জাতিসংঘের কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) ও আন্তর্জাতিক আণবিক গবেষণা সংস্থা থেকে বিশ্বের ১০০টি ছাগলের বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি গবেষণা করে। তাতে বাংলাদেশের স্থানীয় জাতের ছাগল ব্ল্যাক বেঙ্গলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ওয়ালটনের ল্যাপটপ কারখানার যাত্রা শুরু : বিদেশ থেকে ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ আমদানি করে আর দেশে সংযোজন নয়। এখন মাদারবোর্ড থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক অনেক যন্ত্রাংশ বাংলাদেশেই তৈরি করে পূর্ণাঙ্গ ল্যাপটপ উৎপাদন করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটন। বছরের প্রথম মাসে (১৮ জানুয়ারি) গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের হাইটেক ও মাইক্রোটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পার্কে সে কারখানার উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

৩ লাখ বর্গফুটের বিশাল এই কারখানায় আয়োজন করা হয়েছে কম্পিউটার সংযোজন-উৎপাদনের এক মহাযজ্ঞ। ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই কারখানা।

আগে এই কারখানায় ল্যাপটপ সংযোজন করা হতো। এখন এটাকে আর সংযোজন কারখানা বলা যাবে না। এটি এখন ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ল্যাপটপ তৈরির কারখানা। এর আগে ২০১৭ সালের শেষের দিকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত স্মার্টফোন বাজারে আনে ও

অনন্য উচ্চতায় বাংলাদেশ

প্রত্যাশা ডেস্ক : কালের পরিক্রমায় বিদায় নিলো আরেকটি বছর, ২০১৮ সাল। আজ ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিন; স্বাগত ২০১৯। কয়েক বছরের তুলনায় বিদায়ী বছরের ক্রমশ অগ্রসরমান বাংলাদেশের অর্জন ছিল অভুতপূর্ব। স্বাধীনতা লাভের ৪৭ বছর পর স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) শ্রেণি থেকে বের হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘ বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে যোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।

বাংলাদেশকে কেউ আর ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলতে পারবে না। বিষয়টিকে স্বাধীনতা পরবর্তী অন্যতম অর্জন এবং সম্মাননা বলে অভিহিত করেছেন সুধীসমাজ। এর বাইরে, চলতি বছরে আরেকটি উল্লেখযোগ্য অর্জন- স্বপ্ন থেকে বাস্তবে পদ্মা সেতু। বিশ্বব্যাংক যখন এই প্রকল্প থেকে চলে যায়, তখন পদ্মা সেতু প্রকল্প অনিশ্চয়তার মেঘে ঢাকা পড়ে। অনেকেই ভেবেছিল, এই সেতু আর হবে না। কিন্তু সেই সেতুতে বসেছে স্প্যান, মূল সেতু এখন দৃশ্যমান। এর বাইরে উল্লেখযোগ্য জাতীয় অর্জনের মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণ, ঐতিহ্যের মসলিন ফেরানোর উদ্যোগে সফলতা, সফলভাবে দেশে ফোরজি চালু, পাটের পর ধইঞ্চা, ইলিশ এবং ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জীবনরহস্য উন্মোচন, দেশের ল্যাপটপ তৈরির কারখানা চালু প্রভৃতি।

মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি অর্জন : চলতি বছরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও মহান স্বাধীনতার মাসে জাতিসংঘের উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পায় বাংলাদেশ। নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের হাতে চিঠিটি তুলে দেন জাতিসংঘের সিপিডি সেক্রেটারিয়েটের প্রধান রোলান্ড মোলেরাস। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৪ সালে উন্নয়নশীল দেশ হবে বাংলাদেশ। যদিও তার জন্য দুই মেয়াদে (২০১৮ ও ২০২১ সাল) এই অর্জন ধরে রাখতে হবে। জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা- এ তিনটি সূচকের দুটিতে উত্তীর্ণ হলে কোনো দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়।

২০১৮ সালের পর্যালোচনায় এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা হিসেবে মাথাপিছু আয়ের মানদণ্ড ১২৩০ ডলার বা তার বেশি। কিন্তু গত তিন বছরে বাংলাদেশের গড় মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ১২৭২ ডলার। এবারের পর্যালোচনায় মানবসম্পদ সূচকে যোগ্যতা নিরূপণের জন্য স্কোর ধরা হয় ৬৬ বা তার বেশি। বাংলাদেশের স্কোর সেখানে ৭২ দশমিক ৮। অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে যোগ্য হওয়ার নির্ধারিত স্কোর ছিল ৩২ বা তার কম। বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়িয়েছে ২৫। বিশ্বব্যাংক মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে দুটি শ্রেণিতে ভাগ করে। একটি হচ্ছে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ, অন্যটি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ। বাংলাদেশ এখন থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত হবে। প্রতিবছর ১ জুলাই বিশ্বব্যাংক আনুষ্ঠানিকভাবে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় অনুসারে দেশগুলোকে চারটি আয় গ্রুপে ভাগ করে। যাদের মাথাপিছু জাতীয় আয় ১ হাজার ৪৫ ডলার বা তার নিচে, তাদের বলা হয় নিম্ন আয়ের দেশ। বাংলাদেশ স্বাধীনতার পর থেকে এ তালিকাতেই ছিল।

পদ্মা সেতু দৃশ্যমান : একসময়ের স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। তৈরি হচ্ছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য পদ্মা সেতু হতে যাচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জিং নির্মাণ প্রকল্প। ইতোমধ্যে এর ৬০ ভাগ নির্মাণকাজ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নানা জটিলতার পর নিজস্ব অর্থায়নে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করছে সরকার। ২০১৯ সালে এই সেতুতে যান চলাচলের আশা করা হচ্ছে। আরো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন দেখা দেওয়ায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে আরো দেড় হাজার কোটি টাকা। এই অঙ্ক নিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট নির্মাণ ব্যয় বেড়ে ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণ : বাঙালির স্বাধীনতা-সংগ্রামের স্লোগান ছিল ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’। সেই স্লোগান বুকে নিয়েই মহাকাশের পথে উড়াল দেয় দেশের প্রথম বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ১৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ১১ মে রাত ২টা ১৪ মিনিট) স্পেসএক্সের লঞ্চিং স্টেশন থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ কে নিয়ে উৎক্ষেপণ যান ফ্যালকন-৯ মহাকাশের পথে উড়ে যায়।

স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ মূলত ‘কমিউনিকেশন এবং ব্রডকাস্টিং’ ক্যাটাগরির এ স্যাটেলাইট। অর্থাৎ এটি যোগাযোগ এবং সম্প্রচার কাজেই মূলত ব্যবহার করা হবে। এ স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার সক্ষমতা। এর মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে ব্যবহার করবে। আর ২০টি ট্রান্সপন্ডার বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে ভাড়া দেওয়ার জন্য রাখা হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আয় করতে সক্ষম হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল প্রতিবছর অন্যান্য দেশের স্যাটেলাইট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে প্রায় দেড় কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ ভাড়া হিসেবে পরিশোধ করে। বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হলে এ অর্থ বাংলাদেশেই থেকে যাবে। ফলে বড় অঙ্কের টাকার বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় হবে। দেশের বেসরকারি টেলিভিশনগুলোর স্যাটেলাইট ভাড়া বাবদ ব্যয়ও কমে আসবে। এছাড়া, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। ফলে ব্যান্ডউইথের বিকল্প উৎসও পাওয়া যাবে। এই ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে দেশের দুর্গম দ্বীপ, নদী ও হাওর এবং পাহাড়ি অঞ্চলে স্যাটেলাইট প্রযুক্তিতে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা চালুও সম্ভব হবে।

ফিরছে ঐতিহ্যবাহী মসলিন : ফিরে আসছে হারিয়ে যাওয়া মসলিন শাড়ি। ৩০০ বছর পর পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্বখ্যাত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ‘মসলিন’ কাপড় তৈরি শুরু হয়েছে। এরইমধ্যে ১৭০ গ্রাম ওজনের একটি শাড়ি তৈরি করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেওয়া হয়েছে।

যে সুতা থেকে মসলিন তৈরি হতো, সেই ফুটি কার্পাস তুলাগাছের চাষও শুরু হয়েছে। মসলিনের ঐতিহ্য ফেরাতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশের সোনালি ঐতিহ্য মসলিনের সুতা তৈরির প্রযুক্তি ও মসলিন কাপড় পুনরুদ্ধার (১ম পর্যায়) শীর্ষক’ প্রকল্প।

প্রসঙ্গত, আগের দিনে মসলিন হতো কাচের মতো স্বচ্ছ। এই মসলিন রাজকীয় পোশাক তৈরিতে ব্যবহার করা হতো। নানা কারণে আঠারো শতকের শেষার্ধে বাংলায় মসলিন তৈরি বন্ধ হয়ে যায়। তখন এই অঞ্চলে প্রায় ২৮ প্রকারের মসলিনের প্রচলন ছিল। এর মধ্যে এখন শুধু জামদানি প্রচলিত রয়েছে।

ফোরজি চালু : দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) টেলিযোগাযোগ সেবা। ফেব্রুয়ারিতে চার মোবাইল ফোন অপারেটরকে ফোর-জি সেবার লাইসেন্স দেওয়ার মাধ্যমে দেশে এ সেবার যাত্রা শুরু হয়। এর মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলো বাংলাদেশের।

ধইঞ্চার জীবনরহস্য উন্মোচন : কৃষি মন্ত্রণালয়ের পাটবিষয়ক মৌলিক ও ফলিত গবেষণার সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা চলতি বছরে ধইঞ্চার জীবনরহস্য (জিনোম সিকোয়েন্স) উন্মোচন করেছেন। প্রায় ১ হাজার ১৬৮ মিলিয়ন বেস পেয়ার জিনোম আকারের দেশি ধইঞ্চার প্রায় ৪৯ হাজারটি জিন শনাক্ত করে অধিকাংশ জিনের কার্যসমূহ বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর আগে ২০১০ সালে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছিল।

বর্তমানে ধইঞ্চার আঁশের মানোন্নয়নসহ প্রায়োগিক গবেষণা চলমান রয়েছে। ইতিপূর্বে সম্পন্নকৃত জিনোম গবেষণার ফলাফল বিএমসি জিনোমিক্স ও নেচার প্ল্যান্টের মতো বিশ্বখ্যাত জার্নালে প্রকাশের ধারাবাহিকতায় এ গবেষণার ফলাফলও অনুরূপ জার্নালে প্রকাশের পাশাপাশি মেধাস্বত্ব সংরক্ষণের কার্যক্রম চলছে।

ধইঞ্চার জিনোম গবেষণার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমানো। বায়ুমণ্ডলে থাকা ৭৬ ভাগ নাইট্রোজেন প্রচলিত ফসল সরাসরি গ্রহণ করতে পারে না। কিন্তু দেশে প্রাচীনকাল হতে সবুজ সার হিসাবে ব্যবহৃত ধইঞ্চার শিকড় ও কাণ্ডে এক ধরনের নডিউল বা গুটি তৈরি হয় যাতে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়া বায়ুমণ্ডলের নাইট্রোজেন সঞ্চয়পূর্বক গাছকে সরবরাহ করে। ধইঞ্চার এ বৈশিষ্ট্য অন্যান্য ফসলে প্রয়োগের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় এবং উন্মোচন করা হয় ধইঞ্চার জীবন নকশা।

ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচন : ইলিশ মাছের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের দুটি দল। তারা পৃথকভাবে গবেষণা করে এই সাফল্য পেয়েছে। এই সফলতা ইলিশ মাছের সংরক্ষণ ও উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। একই সঙ্গে তা ইলিশ মাছের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতেও সহায়ক হবে।

ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচনের কাজটি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসিনা খানের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল। এছাড়া, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল আলমের নেতৃত্বে আরেকটি গবেষক দলও ইলিশের জীবনরহস্য উন্মোচন গবেষণায় সাফল্য পেয়েছে। পৃথিবীর মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ হয় বাংলাদেশে। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে।

ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স জানার মাধ্যমে অসংখ্য অজানা প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে খুব সহজেই। বাংলাদেশের জলসীমার মধ্যে ইলিশের স্টকের (একটি এলাকায় মাছের বিস্তৃতির পরিসীমা) সংখ্যা কতটি এবং দেশের পদ্মা, মেঘনা নদীর মোহনায় প্রজননকারী ইলিশগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্টক কিনা তা জানা যাবে এই জিনোম সিকোয়েন্সর মাধ্যমে। বছরে দুইবার ইলিশ প্রজনন করে থাকে। জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে এই দুই সময়ের ইলিশ জীনগতভাবে পৃথক কিনা তা জানা যাবে। এমনকি কোনো নির্দিষ্ট নদীতে জন্ম নেওয়া পোনা সাগরে যাওয়ার পর বড় হয়ে প্রজননের জন্য আবার একই নদীতেই ফিরে আসে কি না, সেসব তথ্যও জানা যাবে এই জিনোম সিকোয়েন্সের মাধ্যমে।

এরকম নতুন নতুন তথ্য উন্মোচনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে ইলিশের টেকসই আহরণ। ইলিশের জন্য দেশের কোথায় কোথায় ও কতটি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন তা নির্ধারণ করা সহজ হবে। দেশীয় ইলিশ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের (ভারত, মায়ানমার, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্য) ইলিশ থেকে জীনতাত্ত্বিকভাবে স্বতন্ত্র কিনা তাও নিশ্চত হওয়া যাবে। জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সংবেদনশীল ও খাপ খাওয়ার জন্য নিয়ামক জিন আবিস্কারের মাধ্যমে ইলিশের বায়োলজির উপর বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিরুপণ করাও সহজ হবে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জীবনরহস্য উন্মোচন : পৃথিবীর অন্যতম সেরা জাতের ছাগল ‘ব্ল্যাক বেঙ্গলের’ জীবনরহস্য উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পশু পালন বিভাগের অধ্যাপক বজলুর রহমান মোল্লার নেতৃত্বে এই সাফল্য এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তিবিষয়ক সংস্থা এনসিবিআই থেকে তা নিবন্ধন পেয়েছে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের মাংস বিশ্বজুড়ে কুষ্টিয়া গ্রেড নামে পরিচিত, যা বিশ্বের অন্যতম সেরা ছাগলের মাংস হিসেবে সমাদৃত। এই উদ্ভাবন এই ছাগলের জাতের আরও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে, ওই ছাগলের ওজন ও মাংসের পরিমাণ বাড়ানো এবং মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।

২০১৬ সালে জাতিসংঘের কৃষিবিষয়ক সংস্থা (এফএও) ও আন্তর্জাতিক আণবিক গবেষণা সংস্থা থেকে বিশ্বের ১০০টি ছাগলের বৈশিষ্ট্য নিয়ে একটি গবেষণা করে। তাতে বাংলাদেশের স্থানীয় জাতের ছাগল ব্ল্যাক বেঙ্গলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

ওয়ালটনের ল্যাপটপ কারখানার যাত্রা শুরু : বিদেশ থেকে ল্যাপটপের যন্ত্রাংশ আমদানি করে আর দেশে সংযোজন নয়। এখন মাদারবোর্ড থেকে শুরু করে আনুষাঙ্গিক অনেক যন্ত্রাংশ বাংলাদেশেই তৈরি করে পূর্ণাঙ্গ ল্যাপটপ উৎপাদন করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড ওয়ালটন। বছরের প্রথম মাসে (১৮ জানুয়ারি) গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের হাইটেক ও মাইক্রোটেক ইন্ডাস্ট্রিজ পার্কে সে কারখানার উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

৩ লাখ বর্গফুটের বিশাল এই কারখানায় আয়োজন করা হয়েছে কম্পিউটার সংযোজন-উৎপাদনের এক মহাযজ্ঞ। ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই কারখানা।

আগে এই কারখানায় ল্যাপটপ সংযোজন করা হতো। এখন এটাকে আর সংযোজন কারখানা বলা যাবে না। এটি এখন ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত ল্যাপটপ তৈরির কারখানা। এর আগে ২০১৭ সালের শেষের দিকে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত স্মার্টফোন বাজারে আনে ওয়ালটন। এবার আসছে বাংলাদেশে উৎপাদিত ল্যাপটপ।

কারখানার জন্য যে যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে তা জার্মান ও জাপান প্রযুক্তির। দেশী-বিদেশী প্রকৌশলীসহ কারখানায় সব মিলিয়ে এখন প্রায় ১ হাজার কর্মী। প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে ৬০ হাজার ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ডেস্কটপ এবং ৩০ হাজার মনিটর উৎপাদনের লক্ষ্য তাদের। শুরুতে বিনিয়োগ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ক্রেতাদের চাহিদা ও রুচির ভিন্নতা অনুযায়ী বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ২৬টি ভিন্ন মডেলের ল্যাপটপ। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ওয়েব ডিজাইনার ও গেমারদের ব্যবহারের দিক বিবেচনা করেই ভিন্ন ভিন্ন কনফিগারেশন ও দামের ল্যাপটপ বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। এরই মধ্যে বিশ্বের কয়েকটি দেশে এসব ল্যাপটপ রপ্তানিও হচ্ছে।

য়ালটন। এবার আসছে বাংলাদেশে উৎপাদিত ল্যাপটপ।

কারখানার জন্য যে যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে তা জার্মান ও জাপান প্রযুক্তির। দেশী-বিদেশী প্রকৌশলীসহ কারখানায় সব মিলিয়ে এখন প্রায় ১ হাজার কর্মী। প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে ৬০ হাজার ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ডেস্কটপ এবং ৩০ হাজার মনিটর উৎপাদনের লক্ষ্য তাদের। শুরুতে বিনিয়োগ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা।

ক্রেতাদের চাহিদা ও রুচির ভিন্নতা অনুযায়ী বর্তমানে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ২৬টি ভিন্ন মডেলের ল্যাপটপ। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, ওয়েব ডিজাইনার ও গেমারদের ব্যবহারের দিক বিবেচনা করেই ভিন্ন ভিন্ন কনফিগারেশন ও দামের ল্যাপটপ বাজারে ছেড়েছে ওয়ালটন। এরই মধ্যে বিশ্বের কয়েকটি দেশে এসব ল্যাপটপ রপ্তানিও হচ্ছে।

Please follow and like us:
0